স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট টাইম জব | Part Time Jobs For Students

14 Comments

Photo of author

By Joydeep

 আজকের প্রবন্ধটি সেই সব ছাত্র ছাত্রীদের জন্য যারা পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে কিছু টাকা উপার্জন করতে চাই। আজ এমন কিছু পার্ট টাইম জব নিয়ে আলোচনা করবো যাতে স্টুডেন্টদের পড়াশুনার উপর বিশেষ কিছু প্রভাব পড়বে না। আপনি যদি জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন পুরো পোস্টটি ভালো করে পড়ুন এবং কোন পার্ট টাইম কাজটি আপনারপক্ষে সুবিধার তা বেছেনিন।

স্টুডেন্টদের জন্য সেরা পার্ট টাইম জব (Best Part Time Jobs For Students)

নিচে ৭ টি কাজের তালিকা রয়েছে যেগুলি স্টুডেন্ট তাদের পড়াশুনার মাঝে করতে পারবেন।

  1. টিউশন পড়ানো
  2. আর্টিকেল রাইটিং
  3. ফটো এডিটিং
  4. ওয়েব ডিজাইন
  5. ইউটিউব
  6. ব্লগিং
  7. ফ্রীলান্সিং

প্রত্যেকটি কাজের সম্বন্ধে বিস্তারিত পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন আপনার জন্য কোন কাজটি সেরা।

১. টিউশন পড়ানো

টিউশন পড়ানোর কাজটি ১ নম্বরে রাখার কারন হচ্ছে আপনি আগে যেসব পড়েছিলেন সেগুলো রিভাইজ হবে। বিভিন্ন চাকরির ইন্টারভিউ তে নিচু ক্লাসেরও কিছু প্রশ্ন করে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার এই কাজটি টাকার সাথে নিজের জন্যও লাভজনক প্রমাণ হতেপারে। 

Part Time Teacher

কিভাবে শুরু করবেন – প্রথমে আপনি আপনার আত্মীয় বা প্রতিবেশীর ছেলেমেয়ে, যারা আপনার থেকে নিচু ক্লাসে পড়াশুনা করে তাদেরকে অল্প টাকার বিনিময়ে টিউশন পড়ানো শুরু করুন। তারপর যখন আপনি ভালো টিউশন পড়ান তা লোকে জানবে তখন আপনি আপনার ফিস বাড়াতে পারেন। একবার আপনার টিউশন টিচার রূপে পরিচয় হবার পর আপনাকে আর স্টুডেন্ট খুঁজতে হবে না। স্টুডেন্টরা নিজেই আপনার কাছে পড়তে চাইবে।

২. আর্টিকেল রাইটিং

বাংলা, ইংলিশ কিংবা আপনি যে ভাষার ভালো লিখতে পারেন সেই ভাষায় কোনোকিছুর সম্বন্ধে আর্টিকেল বা প্রবন্ধ লেকে ভালো টাকা আয় করতে পারেন। আপনি জীবনধারা, টেকনোলজি বা আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন সেই বিষয়ে আর্টিয়াক লেখতে পারেন। উদাহরন হিসেবে আমি এখানে ‘স্টুডেন্টদের জন্য পার্ট টাইম জব’ সম্বন্ধে একটি আর্টিকেল লিখেছি যেটি আপনি এখন পড়ছেন।

Part time article writing job

কিভাবে শুরু করবেন – গুগলে পার্ট টাইম আর্টিকেল রাইটর জব সার্চ করে পছন্দ মতো জবের জন্য এপ্লাই করুন। কিংবা ফেইসবুকে Artical Writer দের ৫-৬ টি গ্রুপে যুক্ত হন। সেখানে দেখবেন প্রতিদিন কেও না কেউ কিছু টাকার বিনিময়ে আর্টিকেল লেখতে চান। তাদের সঙ্গে কথা বলে আপনি তাদের জন্য অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে আর্টিকেল লিখেদিতে পারেন।

৩. ফটো এডিটিং

অনেক ছেলমেয়ে নিজের ছবি এডিটিং করে। আপনিও যদি ফটো এডিটিং করতে ভালোবাসেন তাহলে এই কাজটি করতে পারেন। এই কাজটি করার জন্য আপনাকে খুব ভালো ফটো এডিটিং জানতে হবে। আপনি তা ইউটিউব দেখেও শিখতে পারেন। সাধারণত একটা নরমাল ফটো এডিটিং ৩০ মিনিটের মধ্যে করতে পারেন। 

কিভাবে শুরু করবেন – এই কাজটি শুরু করার আগে আপনি ১০-২০ টি ফটো খুব সুন্দর ও প্রফেশনাল ফটো এডিটর দের মতো এডিট করে ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করুন। আপনার লোকাল এরিয়াতে বিয়েবাড়ির বা নানা অনুষ্ঠানের ছবি তুলে আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং আপনর এডিট করা ফটোগুলো দেখান। যদি আপনার এডিট করা ফটো ওদের পছন্দ হয় তাহলে আপনি তাদের তোলা ফটোগুলো অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে এডিট করে দিন। পরে আপনি আপনার মূল্য বাড়াতে পারেন। 

৪. ওয়েব ডিজাইন

এই কাজটি করার জন্য কিছু কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে, যেমন – HTML, CSS, PHP, JAVA ইত্যাদি। এছাড়া আপনার যদি WordPress এর সম্বন্ধে ভালো জ্ঞান থাকে তাও আপনি করতে পারেন। এই কাজটিতে আপনি ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে পারেন। এবং পরবর্তীতে আপনি এটি ফুল টাইম ও করতে পারেন।

কিভাবে শুরু করবেন – আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ও ফ্রীলান্সিং সাইটে ওয়েব ডিজাইন এর কাজ পারেন। 

৫. ইউটিউব চ্যানেল

ইউটিউব কে আপনি পার্ট টাইম জব হিসেবে নিতে পারেন এবং পরবর্তীতে আপনি এটিকে ফুল টাইমও করতে পারেন। ইউটিউব থেকে আপনি প্রথমে কোনো টাকা আয় করতে পারবেন না। ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য প্রথমে আপনার ইউটিউব চ্যানেলে ১০০০ জন সাবস্ক্রাইব করতে হবে এবং আপনার ভিডিও ১২ মাসের মধ্যে মোট ৪০০০ ঘণ্টা দর্শককে দেখতে হবে। মূল কথা আপনি ইউটিউব থেকে তখনি আয় করবেন যখন আপনার ভিডিও দেখতে দর্শকরা পছন্দ করবে।

Youtube logo

কিভাবে শুরু করবেন – প্রথমে আপনি যা ভালো লাগে তা নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলুন, যেমন – রান্না করা, মজা করা, গেম খেলা, মোবাইল অ্যাপস রিভিউ, টেকনোলজি, ফোট এডিটিং টিপস, ফ্যাক্ট ভিডিও ইত্যাদি। তারপর আপনি সেখানে প্রতি সপ্তাহে ৪-৫ টি ভিডিও আপলোড করুন এবং তা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন।

৬. ব্লগিং

স্টুডেন্টদের জন্য ব্লগিং একটি খুবই ভালো পার্ট টিম জব। ইউটিউব এর ব্লগিং অনেকটা একই। ইউটিউব আপনি ভিডিওর মাধম্যে তথ্য প্রদান করেন আর ব্লগে আপনি লেখার মাধ্যমে তথ্য প্রদান করেন। যতো লোক আপনার লেখা পড়বে আপনার আয় ততো বেশি হবে। ব্লগিং করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ব্লগ সাইট বানাতে হবে। আমি blogger.com -তে ফ্রী তে ব্লগ সাইট বানাতে পারেন অথবা কিছু টাকা খরচ করে Domain ও Hosting কিনেও বানাতে পারেন। ব্লগ সাইট বানানোর পর আপনি প্রতিদিন সেখানে কিছু পোস্ট করুন। আপনি যে বিষয়ে ভালো তথ্য দিতে পারবেন সেই বিষয় নিয়েই ব্লগ সাইট বানান।

Blogging as a part time job

কিভাবে শুরু করবেন – প্রথমে আপনি টাকা খরচ করবেন না। ব্লগার এ গিয়ে ফ্রী তে ব্লগ সাইট বানান। তারপর সাইট টি ভালোভাবে ডিজাইন করুন। এরপর আপনি চাইলে একটি domain কিনে আপনার ব্লগে লাগাতে পারেন। তারপর আপনি যে বিষয়ে ব্লগ সাইটটি বানিয়েছেন সেই বিষয়ে রেগুলার কিছু পোষ্ট করুন।

৭. ফ্রীলান্সিং

আপনি পার্ট টাইম কাজ হিসেবে ফ্রীলান্সিংও করতে পারেন। ফ্রীলান্সিং হচ্ছে নিজের ইচ্ছে ও সময়মতো কাজ করা যেখানে আপনার কোনো বস থাকবে না। আমি যে কাজটি জানেন সেই কাজটি নিয়েই ফ্রীলান্সিং শুরু করুন, যেমন – ফটো এডিটিং, আর্টিকেল রাইটিং, ভিডিও এডিটিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন আরো অনেককিছু রয়েছে। 

কিভাবে শুরু করবেন – প্রথমে যেকোন একটি ফ্রীলান্সিং সাইটে ভালকরে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করুন ( ফ্রীলান্সিং সাইট – Freelancer.com, UpWork.com ইত্যাদি ) । তারপর ওখান থেকে কাজের জন্য বিডিং করুন।

এই পোস্টটির মধ্যে আমরা সেরা ৭ টি পার্ট টাইম জব নিয়ে আলোচনা করেছি যা স্টুডেন্টরা তাদের পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে সহজে করতে পারবে।

আরো পড়ুন – 

এখন পশ্চিমবঙ্গে কোনো কোন পদে নিয়োগ করা হচ্ছে।

Leave a comment